শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব মৎস্য খাতে গবেষণায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জাতীয় মৎস্য পদক ২০২৫’ অর্জন করেছেন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব বৃদ্ধি করেছেন। এই প্রতিযোগিতাটি জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত হয়।

তার গবেষণার বিষয় ছিল "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির টেকসই পদ্ধতি"। এই গবেষণায় তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো যায়।

গবেষণার মূল বৈশিষ্ট্য

  • জলবায়ু-সহনশীল ফসলের জাত উন্নয়ন
  • স্মার্ট সেচ ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি
  • জৈব সার ব্যবহারে উৎপাদন বৃদ্ধি
  • কৃষকদের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তি
  • পরিবেশ বান্ধব কৃষি পদ্ধতি

প্রতিযোগিতায় ৩৫টি দেশের ১৫০ জন গবেষক অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্য থেকে রাকিবুল হাসানের গবেষণা সবচেয়ে উৎকৃষ্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়। তিনি স্বর্ণপদকসহ ১০,০০০ ডলার পুরস্কার অর্জন করেন।

"এই অর্জন শুধু আমার একার নয়, এটি আমার বিশ্ববিদ্যালয়, আমার শিক্ষকদের এবং আমার পরিবারের। শেকৃবি আমাকে গবেষণার জন্য যে সুযোগ ও পরিবেশ দিয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।" - মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিক্রিয়া

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রশীদ ভূঁইয়া এই অর্জনের জন্য রাকিবুল হাসানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমাদের শিক্ষার্থীদের এই ধরনের অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ও সুনাম বৃদ্ধি করে।"

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রাকিবুল হাসানকে বিশেষ সম্মাননা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি তার গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রাকিবুল হাসান জানান, তিনি তার গবেষণাকে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে চান। তিনি বাংলাদেশের কৃষকদের সাথে কাজ করে তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তি সাধারণ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে আগ্রহী।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করে এবং তাদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ সৃষ্টি করে। এই অর্জন তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

Share: